Select Page

অটিজম এর লক্ষণ কি দেখে নির্ণয় করবেন

অটিজম এর লক্ষণ কি দেখে নির্ণয় করবেন

অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার (এএসডি) হচ্ছে মূলত নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার, অর্থাৎ একটি জটিল  স্নায়বিক বিকাশ সংক্রান্ত রোগের প্রকারভেদ। এটি মুলত মস্তিস্কের যথাযথ বিকাশ সম্পর্কিত সমস্যা, যেটি সাধারণত শৈশব থেকে শুরু হয় এবং এটি একজন ব্যক্তির আচরণ ও চিন্তার মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, পৃথিবীতে প্রতি ১৬০ জন শিশুর মধ্যে ১ জন শিশুর মাঝে অটিজমের লক্ষণ দেখা যায়। শিল্পোন্নত দেশে অটিজমের প্রভাব অনেক বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি প্রতি ১০ হাজার শিশুর মাঝে ১৬৮ জন শিশু অটিজম আক্রান্ত। অন্যদিকে একটি গবেষণার ফলাফল অনুসারে বাংলাদেশে প্রতি ১০ হাজার শিশুর মধ্যে ১৭ জন শিশু অটিজম আক্রান্ত এবং গ্রামের তুলনায় (১০ হাজারে ১৭ জন) শহরে (১০ হাজারে ২৫ জন) অটিজমের হার একটু বেশি। গবেষকরা এখনো অটিজমের সুনির্দিষ্ট কারণ আবিস্কার করতে পারেন নি, ফলে এই কারণ নিয়ে নানা প্রচলিত বিভ্রান্তি আছে।

অটিজমের লক্ষণ
শিশুর বয়স ছয় মাস পেরিয়ে গেছে কিন্তু সে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে হাসে না কিংবা তাঁর অনুভূতি ঠিকঠাক প্রকাশ করতে পারে না। ওর বয়স এক বছর পেরিয়ে গেছে কিন্তু এখনো আদো-আদো সুরে কথা বলে না, সেই সঙ্গে ইশারায় বা হাত বাড়িয়ে কিছু ধরতে পারে না। শিশুটি মানুষের ভিড় এড়িয়ে একা একা থাকতে পছন্দ করে। অন্যের সাথে চোখে চোখ রেখে তাকাতে লজ্জা পায়। একই নিয়মে চলতে পছন্দ করে এবং নিয়মের লংঘন হলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখায়। অন্যের অনুভূতি ঠিকঠাক বুঝতে পারে না। একই শব্দ বারবার বলতে থাকে এবং একই ধরণের আচরণ বারবার করতে থাকে। যেমন ও যেভাবে মাথা নাড়ায়, হাত বাড়ায় ঠিক সেভাবেই বারবার করতে থাকে। বিশেষ কোনো শব্দ, রং, গন্ধ বা স্বাদের প্রতি অতি মাত্রায় কিংবা খুব কম মাত্রায় সংবেদনশীল থাকে। কোনো বিশেষ কাজের প্রতি অতি আগ্রহ থাকে এবং সেই কাজটি করতেই শিশুর বেশি আগ্রহ থাকে। এই বৈশিষ্ট্যগুলির একটা বড় অংশ যদি কোনো শিশুর মাঝে থাকে তবে সেই শিশুটি অটিজমে আক্রান্ত।

শিশুর আচরণ ভালভাবে লক্ষ্য করলে অভিভাবকরা অটিজমের লক্ষণ খুঁজে বের করতে পারবেন। মনে রাখতে হবে যত তাড়াতাড়ি অটিজমের লক্ষণ খুঁজে বের করা যাবে, একটি শিশুর জন্য ঠিক ততটাই মঙ্গল। লক্ষণ বুঝতে পারলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে পারলে শিশুর জন্য দ্রুত সমস্যা কাটিয়ে ওঠার সম্ভবনা থাকে এবং শিশুটি ধীরে ধীরে জীবন দক্ষতা অর্জন করতে শিখে যায়।

কিন্তু সমস্যা হলো অভিভাবকরা ভাবতেই চাননা তার শিশুটি অটিজম আক্রান্ত। তিনি ভাবতে থাকেন আমার পরিবারে কারো অটিজমের সমস্যা নেই, আমার শিশু কেন অটিস্টিক হবে! এই ইগো শিশুটির বড্ড বেশি ক্ষতি করে দেয়। অথচ প্রথম থেকে বিষয়টি ধরতে পারলে এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে গল্পটা অন্য রকম হয়ে যেত।

পৃথিবীর অনেক বিখ্যাত মানুষের মাঝে শুরুতে অটিজমের সমস্যা ছিল কিন্তু সঠিক সময়ে এটি নির্ণয় করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং অভিভাবকদের মানবিক এবং ভালবাসাময় আচরণ তাদেরকে অটিজম সমস্যা থেকে মুক্ত হয়ে বিশ্ববিখ্যাত মানুষ হতে সাহায্য করেছে। বিখ্যাত প্রকৃতি বিজ্ঞানী এবং বিবর্তনবাদের জনক চার্লস ডারউইন, পদার্থ বিজ্ঞানের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী চরিত্র আলবার্ট আইনস্টাইন, মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস, এপেল এর জনক স্টিভ জবস সহ এরকম বহু মহারথী অটিজম আক্রান্ত ছিলেন। কিন্তু সঠিক সময়ে সমস্যা খুঁজে বের করা এবং অনুকুল পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশ পাওয়ার ফলে তারা অটিজম সমস্যাকে কাটিয়ে উঠে পৃথিবীর ইতিহাসে নিজেদের অবস্থান পাকা করে রেখেছেন।

আমাদের মত রক্ষণশীল সমাজে বড় একটা সমস্যা হল, আমাদের লোকলজ্জার ভয় অনেক বেশি। পরিবারে কোন শিশু অটিজম আক্রান্ত হলে আমাদের আত্মীয়-স্বজন, পাড়া প্রতিবেশী কি ভাববে এবং কতভাবে হেনস্থা করবে সেটা ভেবে আমরা মানসিক ভাবে দুর্বল হয়ে পড়ি। আর এটাই শিশুর জন্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একটা কথা মনে রাখতে হবে যে, অটিজম আক্রান্ত শিশুরা অত্যধিক মেধাবী এবং সৃজনশীল গুনের অধিকারী হয়। আর তাই আমরা যদি একটু সচেতন হই, সামাজিক লোকলজ্জার ভয়কে উপেক্ষা করে শিশুটির পাশে দাঁড়াতে পারি তাহলে সেও একজন বিশ্বসেরা মানুষ হয়ে উঠতে পারে!

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অনুসরণ করুন

Covid 19

20 Jan 2021, 3:42 AM (GMT)

Bangladesh Stats

529,031 Total Cases
7,942 Death Cases
473,855 Recovered Cases